জরায়ুতে ফাইব্রয়েড: কখন অপারেশন প্রয়োজন?
মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, তলপেটে ভারী অনুভূতি কিংবা আল্ট্রাসনোগ্রামে জরায়ুতে ফাইব্রয়েড ধরা পড়লে অনেক নারী দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। বিশেষ করে “ফাইব্রয়েড কি ক্যানসার?”, “এটি থাকলে কি সন্তান হবে না?” অথবা “ফাইব্রয়েড হলেই কি জরায়ু অপসারণ করতে হবে?”—এ ধরনের প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক।
জরায়ুতে ফাইব্রয়েড সাধারণত ক্যানসার নয়। অনেক নারীর কোনো উপসর্গও থাকে না এবং তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েডের অবস্থান, আকার ও সংখ্যার কারণে অতিরিক্ত রক্তপাত, রক্তস্বল্পতা, তলপেটে ব্যথা বা সন্তান ধারণসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই শুধু রিপোর্টে ফাইব্রয়েডের আকার দেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। রোগীর উপসর্গ, বয়স, ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ব্যক্তিভেদে চিকিৎসা নির্ধারণ করতে হয়।
জরায়ুতে ফাইব্রয়েড কী?
ফাইব্রয়েড বা uterine fibroid হলো জরায়ুর পেশি ও সংশ্লিষ্ট টিস্যু থেকে তৈরি হওয়া একধরনের অ-ক্যানসারজনিত বৃদ্ধি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে leiomyoma বা myoma-ও বলা হয়।
ফাইব্রয়েড একটি কিংবা একাধিক হতে পারে। কোনোটি খুব ছোট থাকে, আবার কোনোটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে জরায়ুর আকার পরিবর্তন করতে পারে। একই নারীর জরায়ুতে বিভিন্ন আকার ও অবস্থানের একাধিক ফাইব্রয়েডও থাকতে পারে।
জরায়ুর কোন জায়গায় ফাইব্রয়েড তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে সাধারণত কয়েকটি ভাগ করা হয়:
- Intramural fibroid: জরায়ুর পেশির দেয়ালের মধ্যে তৈরি হয়
- Submucosal fibroid: জরায়ুর ভেতরের আবরণের নিচে তৈরি হয়ে গহ্বরের দিকে বাড়ে
- Subserosal fibroid: জরায়ুর বাইরের দিকে বৃদ্ধি পায়
- Pedunculated fibroid: সরু একটি ডাঁটার সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকে
ফাইব্রয়েডের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ছোট একটি submucosal fibroid কখনো অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটাতে পারে, অথচ তুলনামূলক বড় কোনো subserosal fibroid দীর্ঘদিন তেমন উপসর্গ তৈরি নাও করতে পারে। NICHD-এর তথ্য অনুযায়ী, ফাইব্রয়েডের আকার, আকৃতি ও বৃদ্ধির ধরন ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
জরায়ুতে ফাইব্রয়েডের লক্ষণ কী?
অনেক নারীর ফাইব্রয়েড থাকলেও কোনো লক্ষণ থাকে না। অন্য কোনো কারণে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা গাইনি পরীক্ষা করানোর সময় এটি ধরা পড়তে পারে।
উপসর্গ দেখা দিলে সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- মাসিকের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তপাত
- মাসিক দীর্ঘদিন ধরে চলা
- মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা
- দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত
- তলপেটে ব্যথা, চাপ বা ভারী অনুভূতি
- পেট অস্বাভাবিকভাবে বড় মনে হওয়া
- কোমর বা পিঠের নিচের দিকে ব্যথা
- ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
- মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি করতে অসুবিধা
- কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগে চাপ অনুভব করা
- যৌনমিলনের সময় ব্যথা
- দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো রক্তস্বল্পতার লক্ষণ
- কিছু ক্ষেত্রে সন্তান ধারণে অসুবিধা বা গর্ভাবস্থার জটিলতা
এসব লক্ষণ শুধু ফাইব্রয়েডের কারণেই হয় না। হরমোনজনিত সমস্যা, অ্যাডেনোমায়োসিস, এন্ডোমেট্রিওসিস, জরায়ুর পলিপ, গর্ভাবস্থার জটিলতা এবং অন্যান্য রোগেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই উপসর্গের প্রকৃত কারণ নির্ণয় জরুরি।
NHS-এর রোগী নির্দেশনায় অতিরিক্ত বা ব্যথাযুক্ত মাসিক, পেট ও কোমরে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব, মলত্যাগের সমস্যা এবং সন্তান ধারণে অসুবিধাকে ফাইব্রয়েডের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফাইব্রয়েড কেন হয়?
ফাইব্রয়েড তৈরির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোন, বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং জরায়ুর পেশিকোষের কিছু পরিবর্তন এর বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।
ফাইব্রয়েড সাধারণত প্রজননক্ষম বয়সে দেখা যায়। মেনোপজের পর হরমোনের মাত্রা কমে গেলে অনেক ফাইব্রয়েড ছোট হয়ে যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন হয় না।
ফাইব্রয়েড হওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয় হলো:
- পরিবারে মা বা বোনের ফাইব্রয়েড থাকার ইতিহাস
- প্রজননক্ষম বয়স
- অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
- উচ্চ রক্তচাপসহ কিছু শারীরিক অবস্থা
- কম বয়সে মাসিক শুরু হওয়া
- শরীরের হরমোন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য
এক বা একাধিক ঝুঁকি থাকলেই ফাইব্রয়েড হবে—এমন নয়। আবার পরিচিত কোনো ঝুঁকি না থাকলেও এটি হতে পারে। খাবারের একটি নির্দিষ্ট উপাদানকে একমাত্র কারণ মনে করা বা রোগীকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
ফাইব্রয়েড কি ক্যানসার?
ফাইব্রয়েড হলো অ-ক্যানসারজনিত বৃদ্ধি। সাধারণ ফাইব্রয়েড জরায়ুর ক্যানসারে রূপান্তরিত হয় না। তবে খুব বিরল একটি ক্যানসার, uterine sarcoma, কখনো পরীক্ষায় ফাইব্রয়েডের মতো দেখা যেতে পারে। এটি ফাইব্রয়েড থেকে তৈরি হওয়া রোগ নয়; আলাদা একটি অবস্থা।
মেনোপজের পর নতুন করে জরায়ু বড় হওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দ্রুত পরিবর্তন কিংবা পরীক্ষায় সন্দেহজনক বৈশিষ্ট্য দেখা গেলে চিকিৎসক বিস্তারিত মূল্যায়নের পরামর্শ দিতে পারেন। শুধু ফাইব্রয়েড বড় হচ্ছে শুনেই ক্যানসার ধরে নেওয়া উচিত নয়।
জরায়ুতে ফাইব্রয়েড কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা
চিকিৎসক মাসিকের সময়কাল, রক্তপাতের পরিমাণ, ব্যথা, পেটের চাপ, প্রস্রাব বা মলত্যাগের সমস্যা এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। প্রয়োজন হলে পেট ও পেলভিক পরীক্ষা করা হয়।
আল্ট্রাসনোগ্রাম
Pelvic অথবা transvaginal ultrasonography সাধারণত ফাইব্রয়েড শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ফাইব্রয়েডের সংখ্যা, অবস্থান ও আনুমানিক আকার দেখা যায়।
শুধু আকার জানাই যথেষ্ট নয়। ফাইব্রয়েড জরায়ুর ভেতরের গহ্বর পরিবর্তন করছে কি না এবং আশপাশের অঙ্গে চাপ দিচ্ছে কি না—এসবও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ।
রক্ত পরীক্ষা
অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত থাকলে Complete Blood Count বা CBC করে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দেখা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী আয়রনের ঘাটতি বা রক্তপাতের অন্য সম্ভাব্য কারণ যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা দেওয়া হয়।
MRI বা অন্যান্য পরীক্ষা
বড় বা একাধিক ফাইব্রয়েড, জটিল pelvic mass অথবা অপারেশনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে MRI প্রয়োজন হতে পারে। জরায়ুর গহ্বরের ভেতরে থাকা ফাইব্রয়েড মূল্যায়নে নির্বাচিত রোগীর hysteroscopy বা saline infusion sonography করা হতে পারে। সবার জন্য এসব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। NICHD-এর নির্ণয়সংক্রান্ত নির্দেশনায় আল্ট্রাসাউন্ড, saline infusion sonography ও MRI-সহ বিভিন্ন ইমেজিং পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সব ফাইব্রয়েডের কি চিকিৎসা প্রয়োজন?
না। ফাইব্রয়েড থাকলেও উপসর্গ না থাকলে এবং পরীক্ষায় উদ্বেগজনক কিছু না পাওয়া গেলে অনেক রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর পরীক্ষা বা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
চিকিৎসা প্রয়োজন কি না নির্ধারণে সাধারণত বিবেচনা করা হয়:
- উপসর্গের তীব্রতা
- রক্তপাতের পরিমাণ ও রক্তস্বল্পতা
- ফাইব্রয়েডের সংখ্যা, আকার ও অবস্থান
- ফাইব্রয়েড কত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে
- রোগীর বয়স ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য
- বর্তমানে গর্ভাবস্থা আছে কি না
- ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা
- আগের চিকিৎসায় উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে কি না
অতএব, দুই নারীর রিপোর্টে একই আকারের ফাইব্রয়েড থাকলেও তাঁদের চিকিৎসা এক নাও হতে পারে।
ওষুধে কি ফাইব্রয়েড ভালো হয়?
কিছু ওষুধ অতিরিক্ত রক্তপাত, মাসিকের ব্যথা এবং রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক ব্যথানাশক, tranexamic acid, হরমোনাল চিকিৎসা বা নির্দিষ্ট ধরনের intrauterine device বিবেচনা করতে পারেন।
কিছু হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ সাময়িকভাবে ফাইব্রয়েডের আকার কমাতে পারে এবং অপারেশনের আগে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এসব ওষুধ সবার জন্য উপযুক্ত নয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। ওষুধ বন্ধ করলে উপসর্গ বা ফাইব্রয়েডের বৃদ্ধি আবার দেখা দিতে পারে।
নিজে থেকে হরমোন, রক্তপাত বন্ধ করার ওষুধ বা অনলাইনে পাওয়া তথাকথিত ফাইব্রয়েড গলানোর ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। ওষুধের উদ্দেশ্য অনেক সময় ফাইব্রয়েড সম্পূর্ণ দূর করা নয়; বরং উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা।
কখন ফাইব্রয়েড অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে?
নিচের পরিস্থিতিগুলোতে অপারেশন বা অন্য প্রক্রিয়াভিত্তিক চিকিৎসা বিবেচনা করা হতে পারে:
- ওষুধের পরও অতিরিক্ত রক্তপাত চলতে থাকা
- রক্তপাতের কারণে উল্লেখযোগ্য রক্তস্বল্পতা তৈরি হওয়া
- তলপেটের ব্যথা বা চাপ দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলা
- মূত্রথলি বা অন্ত্রে চাপজনিত সমস্যা হওয়া
- ফাইব্রয়েডের কারণে জরায়ুর গহ্বর বিকৃত হওয়া
- সন্তান ধারণে সমস্যা বা বারবার গর্ভপাতের সঙ্গে নির্দিষ্ট ফাইব্রয়েডের সম্পর্ক পাওয়া
- ফাইব্রয়েড অনেক বড় হওয়া বা দ্রুত পরিবর্তিত হওয়া
- রোগ নির্ণয় নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা
- ওষুধে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া
অপারেশন প্রয়োজন হলেও কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, তা ফাইব্রয়েডের অবস্থান, সংখ্যা, আকার এবং রোগীর ভবিষ্যৎ সন্তান নেওয়ার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
ফাইব্রয়েড অপারেশনের পদ্ধতি
Myomectomy
Myomectomy-তে জরায়ু রেখে শুধু ফাইব্রয়েড অপসারণ করা হয়। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নির্বাচিত রোগীর জন্য এই পদ্ধতি বিবেচনা করা হতে পারে।
ফাইব্রয়েডের অবস্থান অনুযায়ী hysteroscopic, laparoscopic বা open myomectomy করা যায়। তবে অপারেশনের পর ভবিষ্যতে নতুন ফাইব্রয়েড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
Hysterectomy
Hysterectomy হলো জরায়ু অপসারণের অপারেশন। খুব বড় বা একাধিক ফাইব্রয়েড, গুরুতর উপসর্গ এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা না থাকলে নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করা হতে পারে।
ফাইব্রয়েড শনাক্ত হওয়া মানেই hysterectomy প্রয়োজন—এ ধারণা ঠিক নয়। রোগীর সম্মতি, প্রজনন পরিকল্পনা এবং অন্য চিকিৎসার সম্ভাবনা মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
অন্যান্য পদ্ধতি
নির্বাচিত রোগীর জন্য uterine artery embolization, endometrial ablation অথবা অন্য minimally invasive চিকিৎসা বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এসব পদ্ধতি সবার জন্য উপযুক্ত নয়—বিশেষ করে ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
ফাইব্রয়েডের চিকিৎসায় পর্যবেক্ষণ, ওষুধ, myomectomy, hysterectomy ও অন্যান্য পদ্ধতির ব্যবহার সম্পর্কে NHS-এর Fibroids নির্দেশনায় বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
ফাইব্রয়েড থাকলে কি সন্তান ধারণ করা যায়?
অনেক নারী ফাইব্রয়েড থাকা অবস্থাতেও স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করেন এবং সুস্থ সন্তান জন্ম দেন। তবে সব ফাইব্রয়েডের প্রভাব এক নয়।
বিশেষ করে জরায়ুর ভেতরের গহ্বর পরিবর্তনকারী submucosal fibroid কিংবা কিছু বড় intramural fibroid সন্তান ধারণ বা গর্ভাবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। আবার অনেক ফাইব্রয়েডের সঙ্গে বন্ধ্যত্বের সরাসরি সম্পর্ক থাকে না।
সন্তান ধারণে সমস্যা হলে শুধু ফাইব্রয়েডকে দায়ী না করে ডিম্বস্ফোটন, ফ্যালোপিয়ান টিউব, বীর্যের পরীক্ষা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ফাইব্রয়েড অপসারণ করলে গর্ভধারণ নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
ফাইব্রয়েড থাকলে খাবার ও জীবনযাপন কেমন হবে?
কোনো নির্দিষ্ট খাবার, হারবাল মিশ্রণ বা “ডিটক্স” ফাইব্রয়েড গলিয়ে দেয়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়ক হলেও এটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।
উপকারী অভ্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সুষম ও পরিমিত খাবার গ্রহণ
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম
- অতিরিক্ত রক্তপাত হলে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন বা হরমোন না খাওয়া
- মাসিকের তারিখ ও রক্তপাতের পরিমাণ লিখে রাখা
- নির্ধারিত ফলোআপ ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো সমস্যা হলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক প্যাড সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়া
- রক্তপাতের সঙ্গে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি বা বুক ধড়ফড় করা
- হঠাৎ তীব্র তলপেটের ব্যথা
- গর্ভাবস্থায় রক্তপাত বা তীব্র পেটব্যথা
- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট
- মেনোপজের পর যোনিপথে রক্তপাত
- পেট দ্রুত বড় হওয়া বা নতুন কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ
এসব ক্ষেত্রে শুধু ফাইব্রয়েড ধরে অপেক্ষা না করে রক্তপাত বা ব্যথার প্রকৃত কারণ দ্রুত নির্ণয় করা প্রয়োজন।
ফাইব্রয়েড সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
১. ফাইব্রয়েড থাকলেই কি অপারেশন করতে হবে?
না। কোনো উপসর্গ না থাকলে অনেক রোগীর শুধু নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত রক্তপাত, রক্তস্বল্পতা, ব্যথা, চাপজনিত সমস্যা বা প্রজননসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে অপারেশন বিবেচনা করা হতে পারে।
২. ওষুধ খেয়ে কি ফাইব্রয়েড সম্পূর্ণ দূর করা যায়?
ওষুধ সাধারণত রক্তপাত ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। কিছু ওষুধ সাময়িকভাবে ফাইব্রয়েড ছোট করতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্থায়ীভাবে ফাইব্রয়েড দূর করে না।
৩. ফাইব্রয়েড কি ক্যানসারে পরিণত হয়?
সাধারণ ফাইব্রয়েড অ-ক্যানসারজনিত এবং এটি জরায়ুর ক্যানসারে রূপান্তরিত হয় না। তবে সন্দেহজনক উপসর্গ বা পরীক্ষার ফল থাকলে চিকিৎসক আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবেন।
৪. ফাইব্রয়েড অপারেশনের পর আবার হতে পারে?
Myomectomy-তে অপসারণ করা পুরোনো ফাইব্রয়েড ফিরে আসে না, তবে জরায়ুর অন্য জায়গায় নতুন ফাইব্রয়েড তৈরি হতে পারে। ঝুঁকি রোগীর বয়স, ফাইব্রয়েডের সংখ্যা ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
৫. ফাইব্রয়েড থাকলে কি স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব?
হ্যাঁ, অনেক নারী স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন। তবে ফাইব্রয়েডের অবস্থান ও আকার অনুযায়ী কিছু রোগীর অতিরিক্ত মূল্যায়ন বা চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ
অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত, তলপেটে ব্যথা বা চাপ কিংবা আল্ট্রাসনোগ্রামে ফাইব্রয়েড ধরা পড়লে রিপোর্টসহ গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সব ফাইব্রয়েডের অপারেশন প্রয়োজন হয় না। আবার গুরুতর উপসর্গ থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেরি করাও উচিত নয়।
ফাইব্রয়েড ও pelvic mass-এর মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে ডা. রাবেয়া সুলতানার Fibroid & Pelvic Mass Management সেবা সম্পর্কে দেখুন। পরামর্শের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন অথবা চেম্বারের ঠিকানা ও সময়সূচি দেখুন।

Leave a Reply